
বিএনপি নির্বাচনী মাঠে গোছালো নয় এখনোনির্বাচনী মাঠে এখনো গোছালো নয় বিএনপি। একদিকে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করতে সময় লাগছে দলটির, অন্য দিকে মাঠপর্যায়ে বিক্ষিপ্ত অবস্থায় চলছে প্রচার-প্রচারণা। দলটির তৃণমূলের নেতারা বলছেন, প্রার্থী চূড়ান্ত না হওয়ায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামানো যাচ্ছে না। গ্রুপিংও বাড়ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এটির সমাধান হলে প্রচার-প্রচারণায় গতি বাড়বে। নির্বাচন নিয়ে সুনির্দিষ্ট কৌশলও কাজে লাগানো যাবে।অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সে হিসেবে তফশিল ঘোষণার এখনো প্রায় দুই মাস বাকি। তবে তার আগেই মাঠে নেমেছে রাজনৈতিক দলগুলো। সারা দেশে জমে উঠেছে ভোটের রাজনীতি। পাড়া-মহল্লার অলিগলি কিংবা চায়ের দোকান-সর্বত্রই এখন আলোচনার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। শুধু কেন্দ্রীয় নেতা ও সম্ভাব্য প্রার্থী নয়, ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। কে প্রার্থী হচ্ছেন, কোন দল কাকে মনোনয়ন দিচ্ছেন, কার জয়ের সম্ভাবনা বেশি- যে যার মতো করে এ ধরনের হিসাব মেলাতে ব্যস্ত।আগামী নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীকে বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী আরো বেশ কয়েক মাস আগে প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছে। অন্য দিকে বিএনপির প্রার্থিতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অধিকাংশ আসনে একাধিক শক্তিশালী প্রত্যাশী থাকায় কেন্দ্রকে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে বেগ পেতে হচ্ছে। জানা গেছে, চলতি অক্টোবরের মধ্যেই প্রতিটি আসনে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করবে বিএনপি। এটি চূড়ান্ত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকেও তা জানিয়ে দেয়া হবে, যাতে করে নির্বাচনী মাঠে কাজ করতে সুবিধা হয়।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এ বিষয়ে বলেন, বিএনপি নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যেই আছে। দেশের সবচেয়ে বড় দল, প্রত্যেক আসনভিত্তিক একাধিক যোগ্য প্রার্থীর মধ্য থেকে একজনকে বাছাই করতে একটু সময় লাগছে। তবে সেটা খুব শিগগির সমাধান হবে। আর দলের প্রত্যেক নেতাকর্মী নির্বাচনী মাঠেই আছেন। প্রার্থী ঘোষণা হলে সব সমস্যারও সমাধান হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।বিএনপির তৃণমূলের নেতারা জানান, দলের পক্ষ থেকে জনগণের কাছে যাওয়ার স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও এটি চলছে বিচ্ছিন্নভাবে। কোনো সম্মিলিত কর্মসূচি নেই। এতে দিন দিন নির্বাচনী প্রচারণায় পিছিয়ে পড়ছে দলটি। বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দল ও জোটগুলোকে আসন ছাড়ের সিদ্ধান্তও এখন পর্যন্ত নেয়া হয়নি। এখনো এ নিয়ে কাজ করছেন নেতারা। এর ফলে নির্বাচনী মাঠে এক ধরনের সিদ্ধান্তহীনতা যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে বিশৃঙ্খলাও। দলটির প্রত্যেক আসনে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকায় নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এতে কোন্দলের মাত্রা বাড়ছে।তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বলেছেন, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো এখনো জোরালোভাবে নির্বাচনমুখী হয়নি। এসব সংগঠনের শীর্ষ নেতারা মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় আছেন নিজ নিজ এলাকা নিয়ে। এর মধ্যে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রয়েছেন সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তাদের কোনো কর্মসূচি নেই। ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে চরম ভরাডুবির পর সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের ৩৮টিম সারাদেশে সফরে রয়েছেন। বিএনপির সবচেয়ে বড় সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় এর প্রভাব পড়ছে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে। পদহীন থাকায় অনেকেই সক্রিয় নন। নারী ভোটারদের টার্গেট করেও বিএনপির কোনো কর্মকাণ্ড চোখে পড়ছে না। ঢাকা মহানগরের একটি আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী এক নেতা বলেন, তিনি তার আসনের মহিলা দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে একাধিকবার বসেছেন। তাদের সহযোগিতা চেয়েছেন। এমনকি প্রচার-প্রচারণার জন্য সব সুযোগ-সুবিধা দেয়ার পরও তেমন কাজে আসেনি। জনগণের ডোর টু ডোর যাওয়ার দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এই সংগঠনকেই বেশি ভূমিকা পালন করতে হবে। কিন্তু সেখানে মার খাচ্ছি আমরা।নারী ভোটারদের প্রভাবিত করতে ‘নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম’কে মাঠে নামানোর চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে নারী ভোটারদের টার্গেট করে পরিকল্পনা সাজাতে না পারলে নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম সভা সমাবেশ করে কতটা ভূমিকা রাখতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।নেতিবাচক প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না বিএনপি। দলের একাধিক সিনিয়র নেতা বলেছেন, সোস্যাল মিডিয়াতে তাদের উপস্থিতি সন্তোষজনক নয়। বিএনপির বিরুদ্ধে নানামুখী যে প্রোপাগান্ডা চলছে, তার পাল্টা বয়ান তারা তৈরি করতে পারছেন না। একই সাথে দলের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডও সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে দলটি।বিএনপির শীর্ষস্থানীয় এক নেতা বলেছেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যত দ্রুত দেশে ফিরবেন ততই দলের জন্য মঙ্গল হবে। তিনি ফিরলে সংগঠন উদ্দীপ্ত হবে, মাঠের জটিলতা কেটে যাবে। নির্বাচনের মাঠেও বিএনপির শক্ত অবস্থান তৈরি হবে।News
